অদৃশ্য ভাইরাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের সবকিছুই এখন স্বাভাবিক

মোঃরাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ অদৃশ্য ভাইরাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের সবকিছুই এখন স্বাভাবিক। অফিস আদালত আগেই খুলেছে। একমাত্র উচ্চ আদালত চলছে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। শপিংমল, হাটবাজার সবই খোলা। তবে দোকানীদের অভিযোগ, বেচাকেনা কম। বিমান চলাচল সীমিত। ট্রেনও চলছে আগের নিয়মে। গণপরিবহন আগামী মাসের গোঁড়ায় পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

গার্মেন্টসে পুরোদমে কাজ চলছে। বাতিল হওয়া অর্ডার আবার ফিরে এসেছে। শ্রমিক ছাঁটাইও হচ্ছে। বিয়েশাদী হচ্ছে সীমিত পরিসরে। পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলেছে। জীবিকার প্রয়োজনে অর্থনীতিকে সচল করা হয়েছে। অদৃশ্য ভাইরাস সবাইকে ঘরবন্দী করেছিল। এই ভাইরাসের ভয়ে মানুষ আর কতদিন দরজা জানালা বন্ধ করে থাকবে। তাই মানুষজন ছুটছেন জীবিকার তাগিদে। সর্বত্রই স্বাভাবিকের এক আওয়াজ। বেসরকারি অফিসে ছাঁটাই আর বেতন কাটার হিড়িক চলছে। এক্ষেত্রে এগিয়ে ব্যাংক।

শহর ছেড়ে অনেকেই চলে যাচ্ছেন গ্রামে। অনেকে আবার পরিবার গ্রামে রেখে শহরে অফিস করছেন। বিদেশেও বাংলাদেশি শ্রমিকেরা কাজ হারাচ্ছেন। এরইমধ্যে প্রায় ৭৯ হাজার শ্রমিক দেশে ফিরেছেন। এই সময়ে মিডিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে প্রিন্ট মিডিয়া। সম্পাদক পরিষদ অস্তিত্ব সংকটের কথা জানিয়েছে। সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, চলমান করোনাকালীন সংকটে বিশ্ব এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মাঝ দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এর বাইরে নয়।

সকল অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও স্বাভাবিক জীবন থমকে গেছে। এমন অবস্থায় সংবাদপত্র শিল্প এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। প্রচারসংখ্যা কমেছে। টান পড়েছে বিজ্ঞাপনে। এই যখন অবস্থা তখন সংবাদকর্মীরা রয়েছেন নানাবিধ চাপ ও হুমকির মধ্যে। সংবাদ প্রতিষ্ঠান ও সংবাদকর্মীরা সেলফ সেন্সরশিপ অবলম্বন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এরমধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে যত্রতত্র হয়রানি করা হচ্ছে। করোনাকালে রাজনীতি চার দেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। কিছু মানববন্ধন আর বিবৃতির লড়াই জারি রয়েছে। মাঝে মাঝে দোষারোপের রাজনীতি চাঙ্গা হলেও ভার্চুয়াল আওয়াজেই বন্দী থাকছে।